রমজানে ডায়াবেটিস
ইসলামের অন্যতম ইবাদত হিসাবে রোজা পালন করা ফরজ। মুসলিম হিসাবে ডায়াবেটিক রোগী রোজা রাখার অধিকার রাখে। তবে ডায়াবেটিক রোগীদের বিশেষ কোন জটিলতা না থাকলে বেশির ভাগ রোগী রোজা পালন করতে পারবেন। আরবী বৎসরের নির্দিষ্ট ২৯-৩০ দিন রোজা রাখতে হয়। সুবহে সাদিক হতে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত দিনের বেলায় পানাহার নিষিদ্ধ। যার ফলে স্বাভাবিক খাদ্য পরিপাক ও বিপাক ক্রিয়ায় দিন রাত হিসাবে বিরাট পরিবর্তন হয়। রোজায় পরিবর্তিত খাবারের সময় ও ধরণ অন্যান্য মাসের চেয়ে ভিন্ন। ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়তে পারে আবার কমে যেতে পারে। আর ঠিক এই কারণেই রমজান মাসে রোজা রাখার জন্য ডায়াবেটিস রোগীদের আগে থেকেই পূর্ব-প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ দরকার। আগে থেকেই কিছু কিছু নফল রোজা রেখে দেখতে পারেন যে রোজা রাখলে আপনার কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা।
অন্যান্য মাসের সারাদিনের সুষম খাদ্যকে ভাগ করে নিয়মিত ছয় বার খেতে হয়। রোজার সময়ে সম্পূর্ণ সুষম খাদ্যকে তিনবারের মধ্যে নিয়ে আসতে হয় যেমন ইফতার, সন্ধ্যারাত ও সেহরী। ইফতারের সময় অনেক গুরুপাক খাবার খাওয়া হয় যার মধ্যে শর্করাযুক্ত খাদ্য যেমন চিনিযুক্ত পানীয়, তেলে ভাজা প্রচুর খাবার, চাল, গম ও আলু থেকে তৈরী বিভিন্ন পদ ইত্যাদি। রোজা রাখার কারণে আমাদের সারাদিনের কায়িক পরিশ্রমেরও ঘাটতি হয়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের অন্তত তিন মাস পূর্বে রমজানের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে রোজা রাখতে পারবে কিনা, সুস্বাস্থ্যকর খাবার কিভাবে খেতে হবে, দৈনন্দিন কায়িক পরিশ্রম কি ভাবে হবে, কি ভাবে ঘরে বসে নিজে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে, খাবার বড়ি বা ইনসুলিনের মাত্রা কি হবে, শর্করা কমে গেলে ও অন্যান্য অসুস্থতা হলে কি করণীয়- এই বিষয়গুলো আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে বিশদভাবে জেনে নিতে হবে।
রোজা রাখার আগে ঝুঁকি নির্ধারণ
ডায়াবেটিস রোগীদের সবার ঝুঁকি একরকম নয়। কিছু রোগীর জন্য রোজা রাখা তুলনামূলক নিরাপদ হলেও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হতে পারে। যাদের রক্তে শর্করা খুব বেশি অনিয়ন্ত্রিত, ঘন ঘন হাইপোগ্লাইসিমিয়া হয়, সাম্প্রতিক কিটোঅ্যাসিডোসিস হয়েছে, গর্ভাবস্থা বা গুরুতর কিডনি ও হৃদরোগ রয়েছে — তারা উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পড়েন এবং তাদের ক্ষেত্রে রোজা না রাখাই নিরাপদ। মাঝারি ঝুঁকির রোগীরা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখবেন।
রমজান মাসে খাবারের সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হবে ওষুধ এবং ইনসুলিনের মাত্রা ও সময়সূচিরও । আর অবশ্যই ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে দিনের ওষুধগুলোর সময় পরিবর্তন করে সন্ধ্যায় বা রাতে তা গ্রহণ করতে হবে। কারণ ওষুধের মাত্রা রক্তে শর্করার পরিমাণের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। আর ঠিক এ কারণে নিজ থেকেই ওষুধের সময়সূচি পরিবর্তন করা যাবে না। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং অবশ্যই রোজার আগেই করতে হবে।
ডায়াবেটিস রোগীদের সবার ঝুঁকি একরকম নয়। কিছু রোগীর জন্য রোজা রাখা তুলনামূলক নিরাপদ হলেও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হতে পারে। যাদের রক্তে শর্করা খুব বেশি অনিয়ন্ত্রিত, ঘন ঘন হাইপোগ্লাইসিমিয়া হয়, সাম্প্রতিক কিটোঅ্যাসিডোসিস হয়েছে, গর্ভাবস্থা বা গুরুতর কিডনি ও হৃদরোগ রয়েছে — তারা উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পড়েন এবং তাদের ক্ষেত্রে রোজা না রাখাই নিরাপদ। মাঝারি ঝুঁকির রোগীরা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখবেন।
রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের করণীয়:রমজানে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য নির্দেশনা:
- সর্বপ্রথম প্রস্তুতি হিসেবে ডায়াবেটিস রোগীদের জেনে নেওয়া উচিত তাদের শরীর রোজা রাখার জন্য উপযুক্ত কি না। শরীরে যদি শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকে অথবা বিগত তিন মাসের মধ্যে যদি কোন হাইপার বা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার বা কিটোঅ্যাসিডোসিসের ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে রোজা রাখা উচিত নয়।
- ডায়াবেটিস ছাড়াও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা যেমন গুরুতর যকৃতের সমস্যা, হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত হলেও রোজা না রাখাই ভালো। এই তালিকায় অবশ্য গর্ভবতী ডায়াবেটিস রোগী ও ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন এমন রোগীরাও পড়বেন।
- অন্যদের মধ্যে যারা কেবল খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমেই শর্করা নিয়ন্ত্রণ করছেন তাদের জন্য রোজা রাখা সাধারণত নিরাপদ। যারা ইনসুলিন বা ওষুধ ব্যবহার করেন তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখতে হবে এবং নতুন করে ওষুধের মাত্রা ও সময় জেনে নিতে হবে।
রমজানে কখন রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করবেন:
- সারাদিন রোজা রাখার পর এমন খাবার খেতে হবে যাতে শরীরের গ্লুকোজ এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- ইফতারের সময় চিনি জাতীয় খাবার খাবেন না। চিনিমুক্ত পানীয় বেছে নিন। পানীয়ের সঙ্গে চিনি মেশাবেন না। যদি মিষ্টি পানীয় পছন্দ করে থাকেন তবে আর্টিফিশিয়াল (ডায়াবেটিস এর চিনি) সুইটেনার যেমন: ক্যানডেরেল বা সুইটেক্স ব্যবহার করতে পারেন।
- ভাজা খাবার পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। যেমন: পরাটা, সামোসা, কাবাব ইত্যাদি। রান্নার ক্ষেত্রে চার জনের জন্য ১-২ টেবিল চামচ (১৫-৩০ এমএল) তেল ব্যবহার করুন।
- শ্বেতসারযুক্ত খাবার বা পরিমিত পরিমাণে জটিল শর্করা খাবেন যেমন; ভাত, চাপাতি বা নান রুটি যাতে আপনি ক্ষুধার্ত বোধ না করেন।
- আপনার খাবারের তালিকায় অবশ্যই ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, দই ও আঁশযুক্ত খাবার রাখুন।
- সেহরির খাবার শেষ সময়ের অল্প কিছু আগে খাওয়া বাঞ্ছনীয়। সেহরীর সময় নামমাত্র পরিমাণে খাবার খেয়ে রোজা রাখা উচিত নয়।
- রোজার দিনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অতিরিক্ত ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। তবে দৈনন্দিন ও স্বাভাবিক কাজকর্ম করা উচিত। রোজার সময় তারাবির নামাজে যে শারীরিক শ্রম হয়, নিয়মিত হাঁটার সমান হওয়ায় রোজার সময় আলাদা করে হাঁটার প্রয়োজন নেই।
- রোজার দিনে বিকালে দৈহিক পরিশ্রমের কাজ না করে বিশ্রাম নেওয়া ভাল।
- রোজা রেখে ইনসুলিন নেওয়া যাবে।
- রোজা রেখে রক্ত পরীক্ষা করতে কোনো বাধা নেই (এমন কি প্রয়োজনে দিনের বেলাতেও)।
রোজা রেখে রক্ত পরীক্ষা করা যায় এবং এতে রোজা ভঙ্গ হয় না। নিরাপদ থাকার জন্য উল্লেখিত সময়ে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা ভালো:
- সেহরির আগে
- দুপুর বা দুপুরের পর
- বিকালের দিকে (ইফতারের আগে)
- কোনো উপসর্গ যেমন মাথা ঘোরা, ঘাম, দুর্বলতা অনুভব করলে।
রোজা রাখলে ডায়াবেটিস রোগীদের কী কী হতে পারে:
- হাইপোগ্লাইসিমিয়া (রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া)
- হাইপারগ্লাইসিমিয়া (রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়া)
- কিটোঅ্যাসিডোসিস বা হাইপার অসমোলার নন কিটোটিক ডায়াবেটিক কোমা (শরীরে কিটো অ্যাসিড বা অসমোলারিটি বেড়ে গিয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়া বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া)
- এগুলো হলে দ্রুত প্রাথমিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।
হাইপোগ্লাইসিমিয়ার লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা:
রোজার সময় রক্তে শর্করা কমে গেলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে যেমন:
- অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
- হাত কাঁপা বা দুর্বল লাগা
- মাথা ঘোরা বা ঝিমুনি
- বুক ধড়ফড় করা বা অস্থির লাগা
এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে রোজা ভেঙে দ্রুত শর্করাযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে।
রোজায় ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্যাভ্যাস
রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্যালরির চাহিদা আগের মতোই থাকবে। এ সময় শুধুমাত্র খাবার গ্রহণ ও সময়ের কিছুটা পরিবর্তন হবে। ইফতারে বিকল্প চিনি দিয়ে ইসবগুলের ভুষি, তোকমা, লেবু, কাঁচা আম বা তেঁতুল শরবত এসব রোগীদের জন্য উপকারী।
রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্যালরির চাহিদা আগের মতোই থাকবে। এ সময় শুধুমাত্র খাবার গ্রহণ ও সময়ের কিছুটা পরিবর্তন হবে। ইফতারে বিকল্প চিনি দিয়ে ইসবগুলের ভুষি, তোকমা, লেবু, কাঁচা আম বা তেঁতুল শরবত এসব রোগীদের জন্য উপকারী।
- যেকোনো ফলের রস সীমিত বা এড়িয়ে চলা ভালো, সম্পূর্ণ ফল খাওয়া উত্তম। তবে টক ও মিষ্টি উভয় ধরনের ফলের সালাদ খাওয়া যেতে পারে। এতে খনিজ লবণ ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হবে। এছাড়া, কাঁচা ছোলার সঙ্গে আদাকুচি, টমেটো কুচি, পুদিনা পাতা ও লবণের মিশ্রণ খাওয়া যাবে। কাঁচা ছোলায় আঁশ বেশি থাকায় হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
- সন্ধ্যা রাতে (ইফতার পরবর্তী) খাবার একেবারে বাদ দেওয়া উচিত নয়। অবশ্যই কম করে হলেও খেতে হবে। অন্য সময়ের রাতের খাবারের সমপরিমাণ হবে রমজানে ডায়াবেটিস রোগী সন্ধ্যা রাতের খাবার। রোগী ভাত খেতে পারবে তবে পুষ্টিবিদ কর্তৃক বরাদ্দ খাবারের পরিমাণের দিকে সবসময় সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। হালকা মসলায় রান্না, যে কোনো ছোট-বড় মাছ এবং সবজি নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।
- সেহরিতে (ভোর রাতের খাবারে) রুটি অথবা ভাত নিজের রুচি অনুযায়ী গ্রহণ করুন। সেহরির খাবারের পরিমাণ হওয়া উচিত অন্যদিনের দুপুরের খাবারের সমপরিমাণ। সেহরিতে মাছ ও সবজি থাকতে পারে। দুধ অথবা ডাল যে কোনো একটা থাকলে ভালো হয়।
- ইফতারে একসঙ্গে বেশি না খেয়ে অনেক খাবার ধাপে ধাপে ভাগ করে খান। এতে রক্তে হঠাৎ করে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাবে না।
রমজান মাসে খাবারের সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হবে ওষুধ এবং ইনসুলিনের মাত্রা ও সময়সূচিরও । আর অবশ্যই ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে দিনের ওষুধগুলোর সময় পরিবর্তন করে সন্ধ্যায় বা রাতে তা গ্রহণ করতে হবে। কারণ ওষুধের মাত্রা রক্তে শর্করার পরিমাণের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। আর ঠিক এ কারণে নিজ থেকেই ওষুধের সময়সূচি পরিবর্তন করা যাবে না। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং অবশ্যই রোজার আগেই করতে হবে।
- সকালের ওষুধ ইফতারের সময় খেতে হবে, রাতের ওষুধ খেতে হবে সেহরীর সময় (রাতের ঔষধের ৫০% কমিয়ে সেহরীর সময় খেতে হবে)। তবে কেউ যদি ৩ বেলা খায়, তাহলে রোজায় তা দুই বেলায় খেতে পারবে, সকাল ও দুপুরেরটা ইফতারের পর একসাথে খাবে, রাতেরটা সেহরীর পরে খাবে।
- ডায়াবেটিসে সাধারণত তিন ধরনের ইনসুলিন বেশি ব্যবহার হয়: শর্ট এক্টিং বা রেগুলার, লং এক্টিং এবং মিক্সড ইনসুলিন, এগুলোর ডোজ রোজার কারণে পরিবর্তন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডোজ পরিবর্তন করবেন না।
ব্যায়াম
এটা সকলেই জানেন যে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এদের মধ্যে যারা প্রতিদিন একটা নিয়ম করে ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করেন। এ মাসে অবশ্যই তাদের সে রুটিনেও পরিবর্তন আনবে। অনেকের ক্ষেত্রে তারাবির নামাজ হালকা ব্যায়ামের সমতুল্য হতে পারে, তারপরেও কেউ করতে চাইলে ইফতারের একঘণ্টা পর ও সেহরির আগে হাল্কা ব্যায়াম করতে পারেন।
যেসকল অবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীর রোজা ভেঙ্গে ফেলতে হতে পারে:
এটা সকলেই জানেন যে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এদের মধ্যে যারা প্রতিদিন একটা নিয়ম করে ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করেন। এ মাসে অবশ্যই তাদের সে রুটিনেও পরিবর্তন আনবে। অনেকের ক্ষেত্রে তারাবির নামাজ হালকা ব্যায়ামের সমতুল্য হতে পারে, তারপরেও কেউ করতে চাইলে ইফতারের একঘণ্টা পর ও সেহরির আগে হাল্কা ব্যায়াম করতে পারেন।
যেসকল অবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীর রোজা ভেঙ্গে ফেলতে হতে পারে:
- রক্তের গ্লুকোজ ৭০ মি গ্রা/ডি এল (৩.৯ মিমো/লি)- এর কম হলে
- রক্তের গ্লুকোজ ৩০০ মি গ্রা/ডি এল (১৬.৭ মিমো/লি)- এর বেশী হলে
- যে কোন অসুস্থতায়।
সতর্কতা
- ডায়াবেটিসের সঙ্গে যাদের অন্য কোনো জটিলতা, যেমন- কিডনির রোগ, উচ্চমাত্রার ইউরিক থাকলে ডালের তৈরি খাবার থেকে বিরত থাকুন।
- আলসার বা গ্যাসট্রাইটিসের সমস্যা থাকলে ডুবো তেলে ভাজা ও ঝাল যুক্ত খাবার অবশ্যই পরিহার করুন।
- শরীরের ওজন বেশি থাকলে যতটা সম্ভব কম খাবার গ্রহণ করুন এবং খাবারে তেলের পরিমাণ কমিয়ে দিন।
- রোজা রেখে অত্যধিক হাঁটা বা ভারী ব্যায়াম থেকে বিরত থাকুন। কারণ এতে আপনার শরীরে রক্তের শর্করার মাত্রা নিচে নেমে গিয়ে বিপদ হতে পারে।
- ডায়াবেটিস রোগীর রোজা অবস্থায় মাথা ঘুরালে কিংবা বুক ধড়ফড় করলে অবশ্যই ডায়াবেটিস চেক করবে, যদি ব্লাড গ্লুকোজ ৪ মিমো/লি এর নিচে চলে আসে তাহলে রোজা ভেঙ্গে নিয়ে জুস অথবা মিষ্টি খাবার খেয়ে নিবে।
রমজানে অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া উচিত। কারণ শরীর সুস্থ না থাকলে এসব রোগীর জন্য রোজা রাখা অনেক সময় নিরাপদ নাও হতে পারে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন খাবারের ব্যাপারে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে ডায়াবেটিস রোগীদের।

Comments
Post a Comment